ইউরোজোনে টানা তৃতীয় মাসে বাড়ল মূল্যস্ফীতি

ইউরোজোনে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে।

ইউরোজোনে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। এ সময় অভিন্ন মুদ্রা হিসেবে ইউরো ব্যবহারকারী দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির এ হার গত বছরের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। সম্প্রতি ইউরোস্ট্যাটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় মাসের মতো অঞ্চলটিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ল। এর আগে অর্থনীতিবিদরাও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। খবর ইউরো নিউজ।

মূলত ভিত্তিবছর পরিবর্তনের কারণে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি তখনই তৈরি হয়, যখন আগের সময়ের কম বা বেশি দামের কারণে বর্তমান সময়ের তুলনামূলক হারকে বড় বা ছোট দেখানো হয়। এক্ষেত্রে ইউরোজোনের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার নির্ণয়ে গত বছরের জ্বালানির দাম কমার প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও ডিসেম্বরে জুলাইয়ের পর প্রথম জ্বালানির দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের মাসের ঋণাত্মক ২ শতাংশের চেয়ে বেশি। এছাড়া পরিষেবা খাতের মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরে ৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নভেম্বরের ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেশি। এ কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে।

অন্যদিকে গত মাসে অ্যালকোহল, খাদ্য ও তামাকজাত পণ্যের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, তামাক ও অ্যালকোহলের দাম বেড়ে গেলেও অপরিশোধিত খাদ্যের দাম কমে যাওয়ায় সামান্য ভারসাম্য এসেছে।

জার্মানির মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরে বেড়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নভেম্বরে ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ফ্রান্সের মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের মাসে ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। ইতালির মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরে কমে ১ দশমিক ৪ শতাংশে এসেছে, যা নভেম্বরে ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইউরোজোনের বার্ষিক মূল মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরে ২ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের তিন মাসের সমান এবং বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। মূল মূল্যস্ফীতির হিসাব থেকে অ্যালকোহল, তামাক, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দেয়া হয়। কারণ এগুলোর দাম সাধারণত অস্থিতিশীল হয়।

জার্মানির মূল্যস্ফীতি প্রধানত খাদ্য ও পরিষেবা খাতের মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানির দাম ধীরগতিতে কমার কারণে বেড়েছে।

ফ্রান্সে একই ধরনের অর্থনৈতিক কারণের পাশাপাশি বিদ্যুতের শুল্ক বৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। সাপ্লাই চেইনের চলমান সমস্যা এবং ভোক্তা ও ব্যবসায়িক আস্থার ঘাটতি বাজার পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলেছে।

অন্যদিকে ইতালির মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ শিল্প পণ্য ও পরিষেবা খাতের দামের পতন।

এর আগে ইউরোজোন দুর্বল অর্থনীতিকে সহায়তা দেয়ার উদ্দেশ্যে গত মাসে হওয়া ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) বৈঠকে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৩ শতাংশে এনেছে। তবে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার কমানোর পদ্ধতি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে।

কিছু সদস্য যুক্তি দিয়েছেন, অর্থনীতিকে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়ার জন্য আরো বেশি পরিমাণে সুদহার কমানো উচিত। অন্যদিকে কিছু সদস্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এটি বাজারে ভুল বার্তা দিতে পারে।

প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি কমার ধীরগতির কারণে ইসিবি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ডিসেম্বরে পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপিত নতুন পূর্বাভাসে ইউরোজোনে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার আগের পূর্বাভাসের তুলনায় আরো স্থবির হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নীতিনির্ধারকরা নীতি সুদহার হ্রাস ও ঋণদানের শর্ত আরো সহজতর করার বিষয়ে একমত হন।

তবে সুদহার কমানোর পরিমাণ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ঐকমত্য ছিল না। ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর বিষয়ে একমত হলেও কিছু সদস্য মনে করতেন, আরো বড় পরিমাণে যেমন ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানো উচিত। এতে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার আরো কার্যকর হতে পারে বলে মত দিয়েছিলেন তারা।

আরও